ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে কাশ্মীরে হামলার ‘মূলহোতা’ নিহত

ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে কাশ্মীরে হামলার ‘মূলহোতা’ নিহত

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিশেষায়িত বাহিনী সিআরপিএফের গাড়িবহরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সন্দেহভাজন ‘মূলহোতা’ ও বোমা বিশেষজ্ঞ গাজী ওরফে কামরান নিহত হয়েছে। এর আগে পুলওয়ামায় বোমা হামলায় ভারতের সিআরপিএফের ৪৯ সদস্য নিহত হয়েছিল। এ নিয়ে সেনাঅভিযানে নামে ভারতীয় বাহিনী।

নিহত কামরান জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের উপদেষ্টা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার ছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

রোববার দিনগত রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পিংলান এলাকায় সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গাজী নিহত হয়। পরে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় পুলিশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্রোহীদের উপস্থিতি টের পেয়ে সোমবার সকাল ৮: ৪৫ মিনিটে অভিযানে নামে যৌথবাহিনী। এ সময় এক মেজরসহ পাঁচ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। মারা যান বেসামরিক এক লোকও। নিহত সেনারা হলেন- মেজর বিভূতি শঙ্কর ধৌন্দিয়াল, হাওলাদার শিও রাম, সিপাহি হরি সিং ও সিপাহী অজয় কুমার।

খবরে বলা হয়েছে, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা যখন একটি বাড়ি টার্গেট করে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন বিদ্রোহীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে পাঁচ সেনা নিহত হন।

এছাড়াও আরও পাঁচজন আহত হলে তাদের শ্রীনগরের ৯২ বেইস হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জম্মু শহরে গত চার দিন ধরে কারফিউ চলছে। সেখানে কাশ্মীরি মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে।

সেখানকার হাজার হাজার বাসিন্দা হয় পালিয়ে হিমালয় উপত্যকায় চলে গেছেন নয়তো ত্রাণশিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিক অঞ্চলের একটি হচ্ছে কাশ্মীর। ১৯৮৯ সাল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিদ্রোহী দমন করতে সেখানে পাঁচ লাখ ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে এ পর্যন্ত হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। কেবল ২০১৬ সাল থেকে ৬০০ জন নিহত হন। গত কয়েক দশকে এটিই সর্বোচ্চ নিহতের সংখ্যা।